নিউজ বাংলা অনলাইন ডেস্ক,পশ্চিমবঙ্গ : নিজস্ব প্রতিনিধি : কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত মিলল। লোকসভায় তৃণমূলের নতুন দলনেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা হতেই মুখ্য সচেতকের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে নিজেই ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন হুগলির এই বর্ষীয়ান সাংসদ।
কল্যাণের দাবি, “মমতাদি বলেছেন আমি নাকি সাংসদদের মধ্যে সমন্বয় রাখতে পারছি না। কে কখন কথা বলবেন, সেটাও নাকি ঠিক মতো হচ্ছিল না। তাই আমি ইস্তফা দিয়েছি।” তবে তাঁর ইস্তফা এখনও দলের তরফে গৃহীত হয়নি।
সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করে অপেক্ষা করতে বলেছেন। আপাতত সাংসদদের সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে।
কল্যাণের ইস্তফাকে ঘিরে ফের চর্চায় নেতৃত্ব ও দলের অন্দরমহলের টানাপোড়েন। বিশেষত, মহুয়া মৈত্রকে ঘিরেও এদিন মন্তব্য করেন কল্যাণ। বলেন, “যাহ, আজকের দিনটা গেল।” ফলে মহুয়া ও কল্যাণের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
২০০৯ সাল থেকে লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আইনজ্ঞ হিসেবে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাঁর দখল যথেষ্ট। অনেকে মনে করছেন, অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনিই হতে পারতেন দলনেতা। সেই জায়গায় অভিষেকের উত্থান, আর তাতেই দল থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছেন প্রবীণরা— এমনই জল্পনা ঘুরছে দলের অন্দরে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, কল্যাণের জায়গায় কে হবেন নতুন মুখ্য সচেতক? আলোচনায় রয়েছেন মহুয়া মৈত্র, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শত্রুঘ্ন সিনহা ও কীর্তি আজাদের নাম। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
তৃণমূলের অন্দরমহলে নেতৃত্ব বদলের এই অধ্যায় ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ দেবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

