লোকসভা ফল বিশ্লেষণে ধাক্কা, গ্রামকেন্দ্রিক নতুন রণকৌশলে অভিষেক

লোকসভা ফল বিশ্লেষণে ধাক্কা, গ্রামকেন্দ্রিক নতুন রণকৌশলে অভিষেক

Spread the love

News Bangla 24×7 Online Desk: প্রতিবেদক : অভিজিৎ সাহা: কলকাতা:


বিধানসভায় জেতা আসনেই লোকসভায় পিছিয়ে পড়া— এই অস্বস্তিকর বাস্তবতা এখন শাসক শিবিরের মাথাব্যথার বড় কারণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের ফলাফল পাশাপাশি রেখে বিশ্লেষণ করতেই তৃণমূলের অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। বহু কেন্দ্রে ভোটের ব্যবধান অর্ধেকেরও বেশি কমেছে, আবার কোথাও জেতা আসনেই পরাজয়। এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে শাসকদলে।
এই প্রেক্ষিতেই আগামী রবিবার ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের খবর, বুথ থেকে রাজ্যস্তর— প্রায় এক লক্ষ নেতাকর্মী এই বৈঠকে যোগ দেবেন।
কোথায় ধাক্কা?
২০২১ সালে বিপুল জয়ের পরও ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বহু আসনে তৃণমূলের ফল আশানুরূপ হয়নি।
বিশ্লেষণে উঠে এসেছে—
রাসবিহারী: ২১ হাজারের ব্যবধান নেমে আসে হাজারের নিচে
বিধাননগর: মন্ত্রী সুজিত বসুর জয়ের আসনে ১১ হাজারে পিছনো
শ্যামপুকুর: শশী পাঁজার কেন্দ্রে ব্যবধান কমে এক হাজারের নিচে
সোনারপুর দক্ষিণ: ২৬ হাজার থেকে নেমে ১০ হাজার
চন্দননগর: ৩১ হাজার থেকে কমে ৭ হাজার
সন্দেশখালি: ৪০ হাজারে জেতা আসনে লোকসভায় বিজেপি এগিয়ে প্রায় সাড়ে আট হাজারে
এই প্রবণতা শুধু শহরে নয়, গ্রাম-মফস্‌সলেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট ফর্মুলায় পরিস্থিতি সামলানো যাচ্ছে না বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
‘মিশন কমিশন’ নিয়ে শঙ্কা
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের আশঙ্কা, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকলেও কিছু কেন্দ্রে কার্যত ‘প্রভাব’ পড়তে পারে।
দলের এক নেতার কথায়,
“যেখানে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক শক্ত, সেখানে কমিশন নীরব থাকবে। কিন্তু যেখানে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি, সেখানেই ঝুঁকি।”
এসআইআরের দ্বিতীয় পর্ব ঘিরে এই আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
গ্রাম বনাম শহর— বাড়ছে টানাপোড়েন
তৃণমূলের অভিযোগ,
শহরে একাধিক স্থানে শুনানির সুযোগ
গ্রামে শুধুই বিডিও বা এসডিও অফিস
→ ফলে গ্রামীণ ভোটারদের ভোগান্তি বেশি
এই বিষয়টি নিয়েই সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে সরব হন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক।
দল মনে করছে, গ্রামীণ ভোটই তাদের মূল ভরসা। তাই দ্বিতীয় দফায় গ্রামকেন্দ্রিক সংগঠনে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
অভিষেকের রণকৌশল
তৃণমূল সূত্রে খবর—
জেলা ধরে ধরে দুর্বল বুথ চিহ্নিত
শীর্ষ নেতাদের মাঠে নামানো
ভোটার তালিকা সংশোধনে কড়া নজর
গ্রামে সাংগঠনিক শক্তি ফের জোরদার
আগেও এসআইআর শুরুর আগে ১৩ জন নেতাকে জেলায় পাঠানো হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় আরও কড়া নজরদারির সম্ভাবনা।
দুই মুখী প্রচার কৌশল
একদিকে— 

🟢

 ভোটার তালিকায় নাম রক্ষা

🟢

 কমিশনের সিদ্ধান্তে নজর
অন্যদিকে— 

🟢

 ‘বাংলা ও বাঙালির স্বার্থ’

🟢

 ১৫ বছরের উন্নয়ন তুলে ধরা

🟢

 মুখ্যমন্ত্রীর ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রচার
২০২৬-এর ভোটের আগে এই দ্বিমুখী কৌশলেই এগোতে চাইছে তৃণমূল।

#তৃণমূলকংগ্রেস
#অভিষেকবন্দ্যোপাধ্যায়
#এসআইআর
#ভোটারতালিকা
#লোকসভাভোট
#বিধানসভা২০২৬
#বাংলাররাজনীতি
#গ্রামবাংলা
#নির্বাচনকমিশন
#তৃণমূলকৌশল
#পশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *