শীতের সকালে ফের অ্যাকশন মুডে ইডি, আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে হানা

শীতের সকালে ফের অ্যাকশন মুডে ইডি, আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে হানা

Spread the love

News Bangla 24×7 Online কলকাতা, ৮ জানুয়ারি:

শীতের সকালে ফের তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতার সল্টলেকে ভোটকৌশলী সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপ্যাক)-এর অফিসে হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, মোট তিনটি জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। সল্টলেকের অফিসের পাশাপাশি আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়।

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে নথিভুক্ত হওয়া একটি পুরোনো মামলার প্রেক্ষিতেই এই তল্লাশি অভিযান। প্রায় চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে তল্লাশি। বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি একাধিক কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে খবর।

আইপ্যাক মূলত একটি ভোটকৌশলী সংস্থা হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে একাধিক রাজনৈতিক দলের হয়ে কৌশল নির্ধারণের কাজ করেছে এই সংস্থা। বাংলার রাজনৈতিক মহলে আইপ্যাকের বিশেষ প্রভাব রয়েছে বলেই দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। সেই কারণেই সংস্থার অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডির হানাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, ইডির হানার খবর পেতেই আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে একগুচ্ছ নথিপত্রের ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। যদিও এই বিষয়ে সরকারি স্তরে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

কে এই প্রতীক জৈন?

প্রতীক জৈনের লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ২০০৮ সালে মুম্বইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি বম্বে) থেকে মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেটেরিয়াল সায়েন্সে বি.টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেন তিনি, যেখানে মাসিক পারিশ্রমিক ছিল মাত্র ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা। পরে অ্যাক্সিস মিউচুয়াল ফান্ডেও স্বল্প সময়ের জন্য ইন্টার্নশিপ করেন।

২০১২ সালে ডেলয়েট টাচ তোহমাতসু ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডে অ্যানালিস্ট হিসেবে যোগ দেন প্রতীক জৈন। প্রায় এক বছর তিন মাস সেখানে কাজ করার পর তিনি যুক্ত হন ‘সিটিজেনস ফর অ্যাকাউন্টেবল গভার্নেন্স’ নামক সংস্থার সঙ্গে। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ওই সংস্থায় কাজ করেন তিনি।

এরপর সব সম্পর্ক ছিন্ন করে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গড়ে তোলেন ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আইপ্যাক। বর্তমানে তিনি এই সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত প্রতীক জৈন।

বিহার, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকৌশলী হিসেবে কাজ করেছে আইপ্যাক। নির্বাচনের আগে সরকারি প্রকল্প, প্রচার কৌশল, জনসংযোগ এবং সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় এই সংস্থা। শাসক দল, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে আইপ্যাকের—এমনটাই রাজনৈতিক মহলের দাবি।

বর্তমানে প্রতীক জৈন কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক বলে সূত্রের খবর। ইডির এই অভিযানের পর তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং আইপ্যাকের কাজকর্ম নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বাংলা হ্যাশট্যাগ

#ইডিহানা#আইপ্যাক#প্রতীকজৈন#সল্টলেক#কলকাতা#রাজ্যরাজনীতি#তৃণমূলকংগ্রেস#মমতাবন্দ্যোপাধ্যায়#ভোটকৌশল#EDRaid#WestBengalPolitics

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *