News Bangla 24×7 Online : নজরদারি বাড়াল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর
বাংলায় ফের নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) সংক্রমণের খবর ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। সোমবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্স নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা দু’জনেই একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে একজনের বাড়ি নদিয়ায় এবং অপরজনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া এলাকায়। গত কয়েকদিন ধরেই তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া—এই তিন জেলায় জোরদার করা হয়েছে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং। আক্রান্ত দুই নার্স সাম্প্রতিক সময়ে কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত নতুন করে আর কোনও নিপা আক্রান্তের সন্ধান মেলেনি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
সোমবার রাজ্য সরকারের তরফে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়েছে। কীভাবে রোগ চিহ্নিত করা হবে, কী ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে—তা নিয়ে একটি নির্দিষ্ট ‘স্ট্র্যাটেজি’ তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।
সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলায় নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া মাত্রই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম জানিয়েছেন, নিপা ভাইরাস সাধারণত বাদুড় থেকে ছড়ায়। তাই বাদুড় খায় এমন কোনও ফল বা খাবার গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই রোগ একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়াতে পারে, ফলে মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিপা ভাইরাস দ্রুত ছড়ায় এবং মারাত্মক হলে মৃত্যুও হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বাংলায় নিপা ভাইরাস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। শিলিগুড়িতে ওই বছরের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে বহু মানুষ আক্রান্ত হন এবং অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন বলে জানিয়েছে নবান্ন। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।

