রাজ্যের নিজস্ব উদ্যোগে গ্রামীণ আবাসন, সাতবাঁকুড়ায় বাংলার বাড়ির প্রথম কিস্তি প্রদান

রাজ্যের নিজস্ব উদ্যোগে গ্রামীণ আবাসন, সাতবাঁকুড়ায় বাংলার বাড়ির প্রথম কিস্তি প্রদান

Spread the love

প্রতিনিধি অভিজিৎ সাহা, চন্দ্রকোনা রোড :
রাজ্য সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে চালু হওয়া ‘বাংলার বাড়ি’ (গ্রামীণ) প্রকল্পের অধীনে রাজ্যজুড়ে ২০ লক্ষ পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলিকে পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। রাজ্যের অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েতের মতো গরবেতা তিন ব্লকের অন্তর্গত সাতবাঁকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রথম কিস্তির টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে সাতবাঁকুড়া এলাকার উপভোক্তারা খুশিতে আত্মহারা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় আবাস যোজনাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে গ্রামীণ মানুষের মাথার উপর পাকা ছাদ নিশ্চিত করতেই এই নিজস্ব প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চলতি অর্থবর্ষে ব্যাপক সংখ্যক গ্রামীণ পরিবারকে পাকা বাড়ির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং আগামী দিনেও এই প্রকল্প অব্যাহত থাকবে।

এদিন গরবেতা তিন ব্লক এলাকায় মোট প্রায় ১০ হাজার উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা জমা পড়ে। তার মধ্যে সাতবাঁকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ১,৫০০ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে প্রদান করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

বাড়ি নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে প্রশাসনিক তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই কাজে গাফিলতি না থাকে। পাকা বাড়ি পাওয়ার ফলে গ্রামীণ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সালবনি বিধানসভার বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো বলেন,
“মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্য, রাজ্যের কোনও মানুষ যেন মাথার উপর ছাদ ছাড়া না থাকেন। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প সেই লক্ষ্য পূরণেরই বাস্তব রূপ।”

গরবেতা থ্রি ব্লকের বিডিও দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য জানান,
“প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতার দিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। উপভোক্তারা যাতে দ্রুত বাড়ি নির্মাণ শেষ করতে পারেন, সে বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি থাকবে।”

সাতবাঁকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনিকাঞ্চন রায় বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা পাকা বাড়ির স্বপ্ন দেখছিলেন, আজ তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবের পথে। এই প্রকল্পে গ্রামীণ এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন হবে।”

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ দোলন কর হাজরা সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *