নিজস্ব সংবাদদাতা: বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে জোরকদমে প্রস্তুতি। ভোট যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে জন্য সীমান্তবর্তী সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন।
ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই করিডরকে কেন্দ্র করে বাড়ানো হয়েছে কড়াকড়ি। দার্জিলিং জেলায় ইতিমধ্যে ৫০ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে। শুরু হয়েছে নিয়মিত টহল ও নাকা তল্লাশি। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরও ৭ থেকে ৮ কোম্পানি আধাসেনা আসার কথা রয়েছে। একইভাবে কালিম্পং জেলাতেও পৌঁছে গিয়েছে ৭ কোম্পানি বাহিনী, অতিরিক্ত ৩ কোম্পানি মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।
২২ কিলোমিটার প্রশস্ত শিলিগুড়ি করিডরটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে। এই অঞ্চল ঘিরে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চিন—ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকিও এখানে বেশি। গোয়েন্দা সূত্রে আশঙ্কা, সীমান্তের ছিদ্রপথ ব্যবহার করে অস্ত্র, মাদক ও জাল নোট পাচারের চেষ্টা হতে পারে। সেইসঙ্গে অনুপ্রবেশ রুখতেও সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি কর্পস এই এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। পাশাপাশি বিএসএফ ও এসএসবি-কে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। ভারত-নেপাল এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি মানেভঞ্জন, সুখিয়াপোখরি, পশুপতি মোড় ও সান্দাকফুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাড়ানো হয়েছে তল্লাশি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দার্জিলিং জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লক্ষ ৪৮ হাজার ২০৯ জন। তাদের জন্য ১৪৬৫টি বুথ ও ৫২টি সহায়ক কেন্দ্র রাখা হয়েছে। অন্যদিকে কালিম্পং জেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ১ হাজার ৯৩১ জন এবং সেখানে ২৯৩টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। ভোটের আবহে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। তাই সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

