News Bangla 24×7 Online কলকাতা, ধর্মতলা: ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভ দেখালেন কয়েক জন পার্শ্বশিক্ষক। বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ীকরণের দাবিতে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন তাঁরা। পরিস্থিতি দেখে মঞ্চ থেকেই হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
শুক্রবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্না মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ, বিধায়ক এবং রাজ্যের মন্ত্রীরা। সেই সময়ই হঠাৎ মঞ্চের সামনে হাজির হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কয়েক জন পার্শ্বশিক্ষক।
বেতন বৃদ্ধি এবং চাকরির স্থায়ীকরণের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। মঞ্চ থেকে পরিস্থিতি লক্ষ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শান্ত হয়ে থাকতে পারলে থাকবেন। রাজনীতি করবেন না। বিজেপির কথায় এসব করবেন না। এই জায়গা খোলামেলা বলে ভাববেন না যে যা খুশি করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী, শাহকে দেখান।”
এর পরেই পুলিশকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “ওদের আস্তে আস্তে অন্য জায়গায় বসিয়ে দিন।” এরপরই পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আদালতের নির্দেশে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন পার্শ্বশিক্ষকেরা। স্থায়ীকরণ এবং বেতন বৃদ্ধির দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের ডাকে কালীঘাট অভিযানের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছিল। তবে শিয়ালদহ থেকে মিছিল কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছতেই পুলিশ তা আটকে দেয়। এরপর সেখানেই পথ অবরোধ ও অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
পার্শ্বশিক্ষকদের দাবি, ২০০৯ সালে আন্দোলনের সময় মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধাপে ধাপে স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত হলেও ১৫ বছর পরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
এদিকে ২০২৪ সালের ১ মার্চ শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব নবান্নে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক স্তরে ২৮ হাজার টাকা এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ৩২ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল। তবে সেই প্রস্তাব এখনও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
পার্শ্বশিক্ষকদের আরও দাবি, প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু করা, চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু হলে আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের সদস্যদের চাকরির সুযোগ দেওয়ার মতো বিষয়গুলিও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
