গুরু পূর্ণিমা—ভারতীয় সংস্কৃতিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং শ্রদ্ধার দিন। এই দিনটি উৎসর্গ করা হয় গুরুদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে, যাঁরা আমাদের জীবনের অন্ধকারে আলোর দিশা দেখান।
🔶 গুরু পূর্ণিমার তাৎপর্য
- ‘গুরু’ শব্দের অর্থ:
- ‘গু’ মানে অন্ধকার
- ‘রু’ মানে দূরকারী
→ গুরু মানে যিনি অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করেন।
- পূর্ণিমা: এটি আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয়, যা সাধারণত জুলাই মাসে পড়ে।
🔷 গুরু পূর্ণিমার ঐতিহাসিক পটভূমি
- বেদব্যাসের জন্মজয়ন্তী হিসেবেও এই দিনটি উদযাপিত হয়।
তিনি মহাভারতের রচয়িতা ও চারটি বেদ সংকলনের জন্য স্মরণীয়। তাই তাঁকে “আদি গুরু” বলা হয়। - হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও শিখ—সব ধর্মেই গুরু বা আচার্যের স্থান শ্রেষ্ঠ।
🔶 গুরু পূর্ণিমা পালনের রীতি
- শিক্ষকের পায়ে প্রণাম ও উপহার প্রদান।
- আশ্রম ও বিদ্যালয়ে বিশেষ পূজা ও অনুষ্ঠান।
- ভক্তেরা আধ্যাত্মিক গুরুর আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।
- অনেকেই এই দিন উপবাস পালন ও গুরুস্তোত্র পাঠ করেন।
🕉️ আধুনিক যুগে গুরু পূর্ণিমা
আজকের দিনে শিক্ষক, মেন্টর বা যে কোনও পথপ্রদর্শকের প্রতিও এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
চাকরি, শিল্প, শিক্ষা বা আধ্যাত্মিক জীবন—যাঁরা আমাদের জ্ঞান দিয়েছেন, তাঁদের এই দিনে স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

