গুরু পূর্ণিমায় শ্রদ্ধা নিবেদনে মুখর শহর-গ্রাম, বেদব্যাস থেকে আধুনিক শিক্ষক—জয়গান গুরুদেবের

গুরু পূর্ণিমায় শ্রদ্ধা নিবেদনে মুখর শহর-গ্রাম, বেদব্যাস থেকে আধুনিক শিক্ষক—জয়গান গুরুদেবের

Spread the love

নিজস্ব সংবাদদাতা:
আজ আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা। আর এই দিনেই পালিত হচ্ছে গুরু পূর্ণিমা—এক অনন্য উৎসব, যা উৎসর্গ করা হয় জ্ঞানদাতা গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। দেশের নানা প্রান্তে পালিত হচ্ছে এই পূর্ণ তিথি। বিদ্যালয় থেকে মঠ, আশ্রম থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সবখানে আজ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের বিশেষ আয়োজন।

প্রাচীন সংস্কৃতিতে গুরু হলেন সেই ব্যক্তি যিনি অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো দেন। আর তাই ‘গু’ মানে অন্ধকার, ‘রু’ মানে যিনি তা সরান। গুরু পূর্ণিমা মূলত মহার্ষি বেদব্যাসের জন্মজয়ন্তী হিসেবেই পালিত হয়ে আসছে। তিনিই মহাভারতের রচয়িতা ও বেদের সংকলক। তাঁকেই ‘আদি গুরু’ হিসেবে মানা হয়।

আজকের দিনে অনেকেই উপবাস পালন করে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আশ্রম ও শিক্ষাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ পূজা, গুরু স্তোত্র পাঠ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছাত্রছাত্রী ও ভক্তরা তাঁদের গুরুর পায়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ গ্রহণ করেছেন।

শিক্ষাঙ্গনে আজ দেখা গেল এক অন্য আবেগ। অনেক প্রতিষ্ঠানেই প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা এসে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান জানালেন। কেউ ফুল, কেউ পেন-ডায়েরি, কেউ আবার হাতে বানানো কার্ড দিয়ে গুরুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

শুধু ধর্মীয় নয়, গুরু পূর্ণিমা আজ সমাজে এক বৃহত্তর তাৎপর্য নিয়ে এসেছে। আধুনিক সমাজে গুরু মানে শুধুই আধ্যাত্মিক শিক্ষক নয়, তিনি হতে পারেন এক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, একজন পরামর্শদাতা, বা এমনকেউ যিনি জীবনের পথ দেখিয়েছেন।

এই দিনে পশ্চিমবঙ্গের নানা জেলায় স্থানীয় বিদ্যালয় ও আশ্রমে অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। কোনও কোনও স্থানে আয়োজন করা হয়েছে রক্তদান শিবির, সেবামূলক কার্যক্রম ও গুরু স্মরণ সভা।

গুরু পূর্ণিমা তাই শুধু এক ঐতিহ্য নয়, বরং এক মানবিক উপলব্ধি—শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও শিক্ষার প্রতি সম্মান জানানোর এক মহতী উপলক্ষ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *