পশ্চিম মেদিনীপুরের ডিআই-এর বেতন বন্ধের নির্দেশ

পশ্চিম মেদিনীপুরের ডিআই-এর বেতন বন্ধের নির্দেশ

Spread the love

News Bangla 24×7 Online সংবাদ প্রতিনিধি অভিজিৎ সাহা: কলকাতা: আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে (Contempt of Court) কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) অমিত রায়ের বেতন আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ—যতদিন না পর্যন্ত মৃত শিক্ষকের স্ত্রী তাঁর প্রাপ্য সমস্ত অবসরকালীন বেনিফিট পাচ্ছেন, ততদিন ডিআই কোনও বেতন তুলতে পারবেন না।

ঘটনার সূত্রপাত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বৌলাসিনি বিবেকানন্দ হাই স্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক দেবব্রত হাইটকে ঘিরে। দীর্ঘদিন সরকারি পরিষেবায় যুক্ত থাকার পর অবসর গ্রহণ করলেও তিনি তাঁর প্রাপ্য অবসরকালীন বেনিফিট না পাওয়ার অভিযোগ করেন। একাধিকবার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অমিত রায়ের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ। অবশেষে বাধ্য হয়ে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

মামলা চলাকালীনই গত অক্টোবর মাসে মৃত্যু হয় দেবব্রত হাইটের। এরপর তাঁর স্ত্রী অপর্ণা হাইট আদালতে ফের আবেদন জানান। চলতি বছরের ২৫ নভেম্বর মামলাটি বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে ওঠে। সেই সময় আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে মৃত শিক্ষকের সমস্ত বকেয়া অবসরকালীন বেনিফিট মিটিয়ে দিতে হবে।

কিন্তু অভিযোগ, আদালতের সেই নির্দেশ মানেননি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও কোনও অর্থ প্রদান না হওয়ায় ফের আদালতের দ্বারস্থ হন মৃত শিক্ষকের স্ত্রী।

বিষয়টি শুনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তিনি মন্তব্য করেন,

“একজন সরকারি কর্মচারী শিক্ষক তাঁর সারা জীবন সরকারি কাজে ব্যবহার হলেন, অথচ তিনি নিজের অবসরকালীন বেনিফিট পেলেন না। এমনকি তাঁর মৃত্যুর পরেও তাঁর স্ত্রী সেই ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

এই প্রেক্ষিতেই আদালত কড়া সিদ্ধান্ত নেয়। বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী, যতদিন না পর্যন্ত মৃত শিক্ষকের স্ত্রী তাঁর প্রাপ্য সমস্ত অবসরকালীন বেনিফিট হাতে পাচ্ছেন, ততদিন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডিআই অমিত রায় কোনও বেতন তুলতে পারবেন না। আদালতের এই নির্দেশ প্রশাসনের গাফিলতির বিরুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ নজির বলে মনে করছেন আইন মহল।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *