ছাব্বিশের ভোটের আগে উত্তরবঙ্গে চা-রাজনীতির লড়াই

ছাব্বিশের ভোটের আগে উত্তরবঙ্গে চা-রাজনীতির লড়াই

Spread the love

মজুরি যুদ্ধ: অভিষেকের ৩০০, রাজু বিস্তার পাল্টা ৩৫০ টাকার দাবি

News Bangla 24×7 Online : অতনু বর্মন,আলিপুরদুয়ার: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের চা বলয়কে পাখির চোখ করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে প্রকাশ্য রাজনৈতিক টানাপোড়েন।

শনিবার আলিপুরদুয়ারের জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, চা শ্রমিকদের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার কার্যত কোনও ভূমিকাই পালন করছে না।

অভিষেক বলেন, “আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার আগে চা শ্রমিকদের মজুরি ছিল মাত্র ৬০ টাকা। ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু আমি জানি, এই টাকায় সংসার চলে না। তাই নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম অগ্রাধিকার হবে আলিপুরদুয়ার ও চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি।”

তিনি আরও আশ্বাস দেন, রাজ্য সরকার, শ্রমিক ইউনিয়ন ও চা বাগান কর্তৃপক্ষের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডেকে ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরি নিশ্চিত করা হবে।

অভিষেকের এই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পাল্টা জবাব দিল বিজেপি। কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীকে নিয়ে চা শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। সেখান থেকেই অভিষেকের বক্তব্যকে “অপর্যাপ্ত তথ্যভিত্তিক” বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

রাজু বিস্তার দাবি, “চা শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ টাকা করা হবে। অন্তত ৩০০ টাকা নগদ দিতেই হবে। দেরি হলে আরও বেশি দিতে হবে। পাশাপাশি পিএ, সামাজিক সুরক্ষা-সহ সব সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।”

বিজেপির অভিযোগ, কেন্দ্র নয়—রাজ্য সরকারই ন্যূনতম মজুরি আইন কার্যকর করতে ব্যর্থ, যার জেরে চা শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত।

বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “না পড়ে, না জেনে মন্তব্য করছেন তিনি।”

এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা ও শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, “বাম আমলের তুলনায় তৃণমূল সরকার চা শ্রমিকদের মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা অনেকটাই বাড়িয়েছে। অভিষেক বলেছেন, ৩০০ টাকা মজুরি কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা দেখা হবে। অথচ কেন্দ্র সরকার কার্যত কিছুই করে না।”

ভোটের মুখে চা শ্রমিকদের মজুরি ইস্যুতে এই রাজনৈতিক তরজা যে উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের ভোটের অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *