অভিজিৎ সাহা, মেদিনীপুর: চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক বিরল অধ্যায়ে সাফল্য পেল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। ‘রাইট প্যারাডুয়োডেনাল হার্নিয়া উইথ অবস্ট্রাকশন’ নামে অত্যন্ত দুর্লভ এক হার্নিয়ার সফল অস্ত্রোপচার করলেন হাসপাতালের মুখ্য সার্জেন ডাঃ সুদীপ্ত চ্যাটার্জীর নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ দল।
বেলদা এলাকার ৪৬ বছর বয়সী এক মহিলা দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পেট ব্যথা, বমি, পেট ফেঁপে যাওয়া এবং পেটে লাম্পের মতো উপসর্গে ভুগছিলেন। একাধিক বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসার চেষ্টা করেও সুরাহা মেলেনি। উপরন্তু, উচ্চ খরচের কারণে অস্ত্রোপচার করানো সম্ভব হচ্ছিল না পরিবারের পক্ষে।
অবশেষে পরিবারটি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দ্বারস্থ হয়। রোগীকে পরীক্ষা করে বিরল ‘রাইট প্যারাডুয়োডেনাল হার্নিয়া উইথ অবস্ট্রাকশন’ ধরা পড়ে। ১৬ ফেব্রুয়ারি রোগীকে ভর্তি করা হয়। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রায় আড়াই ঘণ্টার টানা অস্ত্রোপচার করেন ডাঃ সুদীপ্ত চ্যাটার্জী ও তাঁর টিম।
অস্ত্রোপচারকারী দলে ছিলেন সহকারী সার্জেন ডাঃ সুপ্রতিম চাকী, ডাঃ অঙ্কন কর্মকার, ডাঃ অমর্ত্য এবং অ্যানাস্থেটিস্ট ডাঃ দেব শংকর ও ডাঃ দেবাশিস ভড়। দীর্ঘ সময়ের জটিল অস্ত্রোপচারের পর সফলভাবে লুকিয়ে থাকা হার্নিয়াটি অপসারণ করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর রোগী কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে ছিলেন। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং দু-একদিনের মধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরবেন বলে জানা গেছে।
ডাঃ সুদীপ্ত চ্যাটার্জী জানান, এই ধরনের হার্নিয়া অত্যন্ত বিরল। গোটা বিশ্বে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি ঘটনার নথি রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে এই জটিল অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় একদিকে যেমন রোগীর পরিবারের বড় অঙ্কের খরচ সাশ্রয় হয়েছে, অন্যদিকে চিকিৎসকদের দক্ষতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টারও প্রমাণ মিলেছে।
এই সাফল্য শুধু মেদিনীপুর নয়, সমগ্র রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

Posted inপশ্চিমবঙ্গ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর
