নিউজ বাংলা ২৪x৭ অনলাইন, অভিজিৎ সাহা: কলকাতা | বিধানসভা:
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৈরি হল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
প্রথমবার কুড়মালি ভাষায় শপথ নিলেন জঙ্গলমহলের পাঁচ কুড়মি বিজেপি বিধায়ক। শপথবাক্যের সূচনা হয়—
“বুড়হাবাপেক নামে কিরিআ খাহঁ জে, বিধিক…”
এই ঘটনাকে শুধু ভাষাগত স্বীকৃতি নয়, বরং কুড়মি সমাজের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও পরিচয় আন্দোলনের বড় জয় হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। মতুয়া, সাঁওতাল ও রাজবংশীদের মতো এবার কুড়মিদের ‘আইডেন্টিটি পলিটিক্স’-ও বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা পেল বলে মনে করা হচ্ছে।
🟡 কারা শপথ নিলেন কুড়মালি ভাষায়?
কুড়মালি ভাষায় শপথ নেওয়া পাঁচ বিজেপি বিধায়ক হলেন—
- জলধর মাহাতো
- রহিদাস মাহাতো
- বিশ্বজিৎ মাহাতো
- রাজেশ মাহাতো
- বিমান মাহাতো
শুধু ভাষাতেই নয়, তাঁদের পোশাকেও ফুটে ওঠে কুড়মি সংস্কৃতির ছাপ। গলায় হলুদ গামছা, হলুদ পোশাক— সব মিলিয়ে বিধানসভায় নজর কাড়ে কুড়মি ঐতিহ্য। বিশেষ করে রাজেশ মাহাতো-কে হলুদ পাঞ্জাবি ও মাথায় হলুদ ফেট্টি পরে শপথ নিতে দেখা যায়।
📖 “এটা কুড়মি আন্দোলনের জয়”
শালবনির বিজেপি বিধায়ক বিমান মাহাতো বলেন—
“কুড়মালি ভাষায় শপথ নিতে পেরে আমরা গর্বিত। ‘বুড়হাবাপেক’ মানে আমাদের সৃষ্টিকর্তা। তাঁকে স্মরণ করেই আমরা শপথ নিলাম। এটা আমাদের কুড়মি আন্দোলনের জয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিধানসভায় এই প্রথম কুড়মালি ভাষায় শপথ নিয়ে ইতিহাস রচনা হল।
⚖️ শপথ নিয়ে ছিল টানাপোড়েন
যদিও এই শপথ গ্রহণের আগে কম জটিলতা পোহাতে হয়নি।
২০১৮ সালে রাজ্য সরকার কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দিলেও বিধানসভায় ওই ভাষার কোনও অনুবাদক ছিল না। ফলে প্রথমে বিধানসভা সচিবালয় জানিয়ে দেয়— বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি, উর্দু বা সাঁওতালির মধ্যেই শপথের ভাষা বেছে নিতে হবে।
তবে দাবিতে অনড় ছিলেন কুড়মি বিধায়করা।
বিমান মাহাতো ভাষাবিদের অনুমোদনসহ কুড়মালি ভাষায় শপথের বয়ান বিধানসভায় জমা দেন। শেষ পর্যন্ত সেই বয়ানকেই অনুমোদন দেয় সচিবালয়।
সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকেও আলোচনা হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারী-র উপস্থিতিতে।
🏛️ রাজনৈতিক গুরুত্ব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গলমহলে কুড়মি ভোটব্যাঙ্ককে আরও সুসংহত করতেই ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সামনে আনা হচ্ছে। বিধানসভায় কুড়মালি ভাষায় শপথ সেই রাজনীতিকেই আরও শক্তিশালী করল।
