‘ক্যামেরা আগে থেকেই ছিল?’— অভিযোগ উড়িয়ে ঝালমুড়িওয়ালার পাল্টা দাবি, বিতর্কে নরেন্দ্র মোদি-র সফর

‘ক্যামেরা আগে থেকেই ছিল?’— অভিযোগ উড়িয়ে ঝালমুড়িওয়ালার পাল্টা দাবি, বিতর্কে নরেন্দ্র মোদি-র সফর

Spread the love

নিউজ বাংলা ২৪x৭ : ঝাড়গ্রাম, বিক্রম নায়েক :

ঝাড়গ্রামের এক সাধারণ ফুটপাথের ঝালমুড়ির দোকান হঠাৎই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আচমকাই সেখানে নেমে ঝালমুড়ি খাওয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বিক্রম সাউয়ের দোকান।

এই আকস্মিক ঘটনাকে ঘিরে যেমন ব্যবসা বেড়েছে, তেমনই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কও। সোমবার সকাল থেকেই দোকানে সংবাদমাধ্যমের ভিড়। একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তিতে কিছুটা বিরক্ত বিক্রমের স্পষ্ট জবাব—
“সবটাই সাজানো কি না, সেটা আমি কী করে বলব?”

বিক্রমের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আসার কয়েক মিনিট আগে এক ব্যক্তি এসে মুড়ি কিনেছিলেন। তারপর হঠাৎই নিরাপত্তা ব্যারিকেড খুলে দেওয়া হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর দোকানে পৌঁছে যান।

এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং “সবটাই নাটক”। তাঁর অভিযোগ, দোকানে আগে থেকেই ক্যামেরা বসানো ছিল।

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রম সাউ। তাঁর কথায়,
“দোকানে আগে থেকে কোনও ক্যামেরা লাগানো ছিল না। প্রধানমন্ত্রী আসার পরেই ক্যামেরাম্যান ঢুকেছিলেন।”

তিনি আরও জানান, তাঁর দোকান প্রতিদিনই একইভাবে সাজানো থাকে, বিশেষ কোনও প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। সবকিছুই স্বাভাবিকভাবেই হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

ঘটনার পর থেকেই সাধারণ মানুষের ভিড় বেড়েছে দোকানে। অনেকে শুধু ঝালমুড়ি কিনতেই নয়, বিক্রমের সঙ্গে ছবি তুলতেও আসছেন। সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক ভিডিও ও রিলস, যা দোকানটিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।

জানা গিয়েছে, বিক্রম সাউয়ের পরিবার মূলত বিহারের গয়ার বাসিন্দা। প্রায় ১৫ বছর আগে তাঁর বাবা ঝাড়গ্রামে এসে এই ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে পরিবারের সকলে এই ছোট ব্যবসার সঙ্গেই যুক্ত।

একটি সাধারণ ঝালমুড়ির দোকান ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *