নিউজ বাংলা ২৪x৭ : নয়াদিল্লি: মহিলা সংরক্ষণ বিল দ্রুত অনুমোদনের দাবি জানিয়ে দেশের ‘নারীশক্তি’-র উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ প্রকাশিত সেই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন—দেশের কন্যাদের আর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করিয়ে রাখা উচিত নয়।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সংসদ ও পরিষদীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। তাঁর কথায়, মহিলাদের কণ্ঠস্বর যত শক্তিশালী হবে, ততই দেশের গণতন্ত্র আরও মজবুত হবে। বহু প্রতীক্ষিত এই সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের মা-বোন-কন্যারা ইতিমধ্যেই মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন। ২০২৯ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন।
নারীশক্তির উদ্দেশে লেখা এই চিঠিতে নরেন্দ্র মোদি শ্রদ্ধা জানান বাবাসাহেব আম্বেদকর-কে, যিনি দেশের সংবিধানে সমতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, শীঘ্রই তিনদিনের জন্য সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে কেন্দ্র সরকার। রাজনৈতিক মহলের মতে, ওই অধিবেশনেই মহিলাদের জন্য সংসদ ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব আনা হতে পারে।
সূত্রের খবর, মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮০০-রও বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেই সঙ্গে নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন)-এর উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে।
যদিও এই পদক্ষেপ ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। ডেরেক ও’ব্রায়েন সহ একাধিক বিরোধী নেতা সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে নয়, বরং হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ডিলিমিটেশন হওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই এই বহু প্রতীক্ষিত বিল বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

